ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য - ছাত্রজীবন রচনা সকল শ্রেণীর
পাঠক আপনি কি ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য এক কথায় ছাত্রজীবন রচনা সম্পর্কে জানতে চান? ছাত্রজীবন রচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য। তাই আপনি যাতে করে সহজেই পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারেন এই কারণেই আমরা সহজ ভাবে ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা তুলে ধরেছে।
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনাটি আমাদের প্রত্যেকের জেনে রাখা প্রয়োজন। এই কারণে আপনাদের উপকারে আমি নিচে ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনাটি তুলে ধরলাম।
সূচিপত্রঃ ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য - ছাত্রজীবনে রচনা সকল শ্রেণীর
ইভিভিটিভি
ভূমিকা
আপনি যাতে করে পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ মার্ক নিশ্চিত করতে পারেন এই কারণে ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি বই থেকে তুলে ধরা হলো। নিজের রচনাটি লিখলে আপনি সর্বোচ্চ মার্কে নিশ্চিত করতে পারবেন আপনার পরীক্ষার খাতায়। এবং নিম্নলিখিত রচনাটি খুবই সহজ হয় যে কেউ সহজেই মনে রাখতে পারবেন।
নিম্নলিখিত ছাত্রজীবন রচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বেশ কয়েকটি রচনা তুলে ধরা হলো যাতে করে আপনি পরীক্ষার খাতায় আপনার পছন্দ অনুযায়ী রচনাটি লিখতে পারেন। নিম্নলিখিত রচনার মধ্যে থাকবে ভূমিকা, ছাত্র জীবনের মূল্য, ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য, চরিত্র গঠন, স্বাস্থ্য গঠন, শিক্ষা ও মাতা পিতার প্রতি কর্তব্য, সমাজের প্রতি কর্তব্য, উপসংহার। এছাড়াও এই আর্টিকেলটির মধ্যে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে।
ছাত্রজীবন
অথবা, ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
ভূমিকা : মানব জীবনের যে সময়টুকু শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ, মক্ত-মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য নাগরিক ও যথার্থ জ্ঞানী করে তোলার কাজে ব্যাপৃত থাকে, তাকে ছাত্রজীবন বলে। ছাত্র জীবনকে জীবন সংগ্রামের প্রস্তুতির সময়ও বলা হয়।
আরো পড়ুনঃ সময়ের মূল্য রচনা
ছাত্রসমাজের মূল্য : ছাত্রজীবনের মূল্য অত্যধিক। ছাত্র জীবন মানব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। ছাত্র জীবনকে ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ বপনের সময়ও বলা যায়। এ সময় যেমন বীজ বপন করা হয়, ভবিষ্যতে তেমনি ফল পাওয়া যায়। এ সময় নিয়মিত ও রীতিমতো জ্ঞানানুশীলন করলে ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল ও সুখময় হয়ে ওঠে।
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য: অধ্যায়ন ছাত্রদের প্রধান কর্তব্য। সংস্কৃতে একটি কথা আছে- “ছাত্রনং অধ্যায়নংতপঃ” অর্থাৎ অধ্যায়নই ছাত্রের তপস্যা। শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যায়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বহির্জগতের জ্ঞানভাণ্ডার হতে জ্ঞান আরোহণেরও চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে কর্মী ও জ্ঞানী করে তোরাই ছাত্র জীবনের মূল লক্ষ্য।
জীবনের সব ক্লান্তি হতাশা, অবিশ্বাস দূর করে দৃঢ়প্রত্যয় ও সৎ সাহস নিয়ে ছাত্রদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ত্যাগও সত্যের অভিমুখী হওয়ার ছাত্রদের উচিত। তাদেরকে সুস্থ ও সবল মনের অধিকারী হতে হবে।
ছাত্রদের উচিত অনাড়ম্বর জীবন যাপন করা। উচ্চ চিন্তা ও সহজ জীবন আচরণ তাদের প্রকৃত মানুষ করতে সহায়তা করে। মিথ্যা পরিহার করা, নকল প্রবণতাকে ঘৃণা চোখে দেখা ছাত্রদের দায়িত্ব। সত্য কথা, সদাচরণ, সদা লাপ ছাত্রদের ভূষণ। সব রকম লোভ মহ ত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার ছাত্রদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ ছাত্ররা পথভ্রষ্ট হলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিম্ন লজ্জিত হতে বাধ্য।
চরিত্র গঠন : চরিত্র মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার। চরিত্রহীন ব্যক্তি পশুর সমান। ছাত্রদের চরিত্রের উপরে জাতীয় চরিত্র নির্ভরশীল্ তাই চরিত্র গঠনের দিকে ছাত্রদের বিশেষ তৎপর হতে হবে। লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আইনশৃঙ্খলা অভিনয় শিষ্টাচার সত্যবাদিতা কর্তব্যপরায়ণতা ইত্যাদি সৎ গুনের অধিকারী হতে হবে।
স্বাস্থ্য গঠন : স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তাই স্বাস্থ্য গঠনের দিকে ছাত্রদের বিশেষ নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে জীবন অর্থহীন হয়ে পড়ে্। প্রত্যেক ছাত্রকে স্বাস্থ্য গঠনের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। সুস্থ সবল থাকার জন্য নিয়মিত শারীরিক। নিজের কাপড়-চোপড় আসবাবপত্র ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষক ও পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য : পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের প্রতিশ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করা ছাত্রদের আরেকটি প্রধান কর্তব্য। তারা যা আদেশ বা নিষেধ করেন তা প্রত্যেক ছাত্রকে সানন্দে পালন করা উচিত। পিতা মাতা আছেন বলেই পৃথিবীতে তাদের আবির্ভাব ঘটেছে। । পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্ররা খুঁজে পায় ভবিষ্যৎ ও জীবনের পথ।
সমাজের প্রতি কর্তব্য: সমাজসেবায়ও ছাত্ররা অশেষ অবদান রাখতে পারে। ছাত্ররা সমাজেরই অংশ। । তাই সমাজের কল্যাণ সাধন ও অজ্ঞ মানুষকে আলোর পথে আহবান করা তাদের কাজ। আত্ম সচেতন নাগরিক হিসেবে ছাত্রদের উচিত মানুষের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা্। শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে ও তাদের আত্মনিয়োগ করা যথেষ্ট অবকাশ আছে। নিপীড়িতি মানুষের পাশে বিপদের দিনে ছাত্ররা দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া সমাজ উন্নয়ন ও দেশ গঠনের কাজে ছাত্ররা এগিয়ে আসতে পারে।
উপসংহার
ছাত্ররাই দেশের আশা ভরসা। একটা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নতি ও অবনতি অনেকাংশে নির্ভর করে ছাত্রদের উপর। আজ যারা ছাত্র দুদিন পর তারাই হবে দেশের নেতা ও কর্মী। তাই প্রত্যেক ছাত্রকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আত্মনিয়োগ করে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত।
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য সহজ রচনা
আপনারা অনেকেই চান ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য ও সহজ্য রচনা। এ কারণে আমি নিচে আরও একটি ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বা ছাত্রজীবন রচনা সম্পর্কে তুলে ধরছি। নিচের দেওয়া ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনাটি যারা ছোট রয়েছেন তাদের জন্য খুবই উপকার হবে।
আরো পড়ুন : তথ্য প্রযুক্তি ও বাংলাদেশ রচনা
কারণ রচনাটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে ছোটরাও এক কথায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এটি সহজ ভাবেই পড়ে মনে রাখতে পারবেন। এবং পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ মার্ক নিশ্চিত করতে পারবে। এই কারণে নিজের রচনাটি দেখে নিন। আমরা নিজের এই রচনার মধ্যে রাখবো ভূমিকা, ছাত্র জীবনের রূপ, ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, পরোপকার, দেশাত্মবোধ, পরিবারের প্রতি কর্তব্য, উপসংহার। তো চলুন বেশি দেরি না করে শুরু করা যাক।
ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
অথবা ছাত্রজীবন রচনা
ভূমিকা : কোন একটি দেশের প্রাণশক্তি হচ্ছে ছাত্রসমাজ। তাদের চোখে স্বপ্ন, বুকে সাহস। তাদের সাহসী পদক্ষেপ সব বাধা বিপত্তি দূর হয়ে যায়। তাদের দুঃখ সাহসিক অভিযানে অন্যায়, অসত্য মুছে যায়। তাদের মধ্যে আছে প্রচুর শক্তি ও সম্ভাবনার নিদর্শন। তারা পুরাতনকে পেছনে ফেলে সামনে নতুনের দিকে এগিয়ে যায়। কবির ভাষায়-
আমরা শক্তি, আমরা বল
আমরা ছাত্রদল।
মোদের চরণ তলায় মূর্ছে তুফান
ঊধ্বে বিমান ঝড় বাদল।
আমরা ছাত্রদল।
ছাত্রজীবনের রূপ : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের সময়টুকু ছাত্র জীবন। জীবনের যে সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করা হয়। সে সময়টি খুবই মূল্যবান। প্রচলিত কুসংস্কারকে পিছনে ফেলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতে এগিয়ে যেতে হয়। এই সময় সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত হয়। তাই ছাত্র জীবন প্রস্তুতির জীবন। কেননা বিশ্বকে এগিয়ে নিতে হবে তাদেরই। তাই এ সময় তার সারা জীবনের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান সময়।
আরো পড়ুন : ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা
ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য: নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলাই ছাত্র জীবনের প্রধান দায়িত্ব। ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার গুরু দায়িত্ব ছাত্রদেরকেই নিতে হবে। জাতির সমস্যা সমাধান করা, বিশ্ব সমাজে জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করার দায়িত্ব ও ছাত্রদের।
শাস্ত্রে আছে, ‘ছাত্র নং অধ্যায়নং তপঃ’। অর্থাৎ অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা। ছাত্র জীবনের মূল কর্তব্য হচ্ছে পড়াশোনা করা। এটি জ্ঞান আরোহণের সময়। পক্ষান্তরে, জ্ঞান আরোহণের পাশাপাশি গুরুজন ও শিক্ষককে সম্মান প্রদর্শনও ছাত্রদের অন্যতম কর্তব্য।
শৃঙ্খলাবোধ : শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, সময়াঅনুবর্তিতা সকল মহৎ গুণের চর্চা ছাত্রজীবনে করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর পরিপার্শ্বিক পরিবেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব ছাত্রদের।
পরোপকার : ছাত্রদের পরোপকারী হতে হবে। লোভ-লালসা, সংকীর্ণতা ইত্যাদি পরিহার করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জনকল্যাণ করতে হবে। পরপোকার ও ছাত্রদের কর্তব্য এ কথা মনে রাখতে হবে।
দেশাত্ববোধ : দেশাত্মবোধ ছাত্রদের অন্যতম কর্তব্য। দেশের প্রতি ছাত্রদের ভালোবাসা জন্মাতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রসমাজ যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল তা স্মরণ করে ছাত্রদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জাতিকে উন্নতির পথে পরিচালনা করার দায়িত্ব ছাত্রদের।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা ২০ পয়েন্ট
পরিবারের প্রতি কর্তব্য : প্রত্যেক ছাত্রকেই পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেতন হতে হবে। ভাই বোন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সমাজ সবার প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
উপসংহার : ছাত্ররাই জাতির ভবিষ্যৎ - এ কথা মনে রেখে ছাত্রদের জীবন গঠন করতে হবে। ছাত্র জীবন ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত। তাই জ্ঞানার্জন, চরিত্র গঠন, সমাজসেবামূলক কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ মানব হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই নিজের জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সাধন হবে, গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ।
লেখকের মন্তব্য
যাতে করে আপনারা সবাই সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার্থীরা সহজভাবে লিখতে পারেন। আমরা এটি সহজ ভাবে তুলে ধরেছি। আপনারা যে কেউ উপরোক্ত দুটি রচনার মধ্যে আপনার পছন্দমত একটি রচনা মুখস্থ করে সেটি পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারেন। আপনি যদি সম্পূর্ণ রচনাটি পড়েন তাহলে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আপনি চাইলে উপর রক্ত রচনাটি থেকে কিছু ধারণা নিয়ে আরো ছোট এবং আরো বড় রচনা তৈরি করতে পারবেন। এই রচনাটি প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর জন্য খুবই উপকারী হবে।
ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url