বাংলাদেশের নামকরণ - বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস

আপনি কি বাংলাদেশের নামকরণ বা বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান। আপনি যদি বাংলাদেশ নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকে এই আর্টিকেলটির মধ্যে আমরা বাংলাদেশের নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস
আপনি যদি বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

সূচিপত্র : বাংলাদেশের নামকরণ - বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস

ইভিভিটিভি

ভূমিকা

বাঙালি জাতি এবং যে ভূখণ্ড নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে তার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। বর্তমানে যে ভূখণ্ডে বাংলাদেশ হিসেবে অব্যাহত করা হয় তা একসময় একক কোন দেশ ছিল না। আর আমরা আজকে এই আর্টিকেলটির মধ্যে আলোচনা করব এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের নামকরণ বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করব আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। চলুন বেশি দেরি না করে শুরু করা যাক।

বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস

আমরা ইতিমধ্যে আপনাকে বলেছি যে বাঙালি জাতির যে স্বাধীন ভূখণ্ড বাংলাদেশ নামে পরিচিত এই দেশটি একেবারে আসেনি অনেক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ নামে একটি দেশ হয়েছে। আজকে আমরা এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। কারণ ঐতিহাসিক কাল থেকেই বাংলা অঞ্চল বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক অঞ্চলের ছিল আলাদা নাম ও শাসন কাঠামো। এ কারণে নিজে বাংলাদেশের নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বাংলাদেশের নামকরণ

বাংলাদেশের নামকরণ
বাংলার ইতিহাস এবং প্রাচীন হলেও বাংলা নামের উৎপত্তি বিষয়ে ঐতিহাসিক মতভিন্নতা রয়েছে। আমরা আজ যে জনগোষ্ঠীকে বাঙালি এবং যে ভূখণ্ডকে বাংলা বা বাংলাদেশ বলে জানি তা আধুনিককালের। প্রাচীনকালে এদেশে একক নামের ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের কোন পরিচয় মিলে না। তবে এতদঞ্চলে কতিপয় প্রাচীন জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তন্মধ্যে একটি জনপদের নাম বঙ্গ।


ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, বাংলা নামের উদ্ভব হয়েছে এই বঙ্গ থেকে। আর বঙ্গ এসেছে এবং বঙ থেকে। তাদের মতে, ’বঙ’একটি প্রাচীন জাতির নাম যারা ভাগীরথী নদীর তীরে বসবাস করত। বঙ্গ (বঙ্গাবগধাশ্চেরপাদাঃ) নামের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে রচিত ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে পাণিনির অষ্ঠাধ্যায়ীর ভাষ্য পতঞ্জলি সুহ্মাঃ, পুন্ড্রাঃ, বঙ্গাঃ, এর উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন মহাভারত, পুরাণ ও হরিবংশ প্রভৃতি গ্রন্থে ও বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারত থেকে প্রথম স্পষ্ট জানা যায়, পূর্ব ভারতীয় অঞ্চল কয়েকটি জনপদে বিভক্ত ছিল। শ্লোকে বলা হয়েছে,

” অঙ্গো বঙ্গ: কলিঙ্গশ্চ পুন্ড্র: সুহ্মাশ্চাতে সুতাঃ । দেষাৎ দেশা সমাখ্যাতাঃ স্বনাম কথিপতা ভূমি ।। (১৮/১০)

মহাভারতের আখ্যান অনুযায়ী, প্রাচ্যদেশীয় চন্দ্রবংশোদ্ভব রাজার বলিরাজের পঞ্চপুত্র অঙ্গ. বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুন্ড্র, সুহ্ম এর নামনুসারে উক্ত রাজ্যসমূহ জগদ্বিখ্যাত হয়েছে। ‘বোধায়ন ’ধর্মসূত্রে’ পন্ড্রের ও বঙ্গের অবজ্ঞার্থে উল্লেখ রয়েছে। পৃষ্ঠা জন্মের পর যে গ্রন্থটিতে বঙ্গ নাম পাওয়া যাচ্ছে তা হচ্ছে টলমির ভূগোল। আনুমানিক খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে উত্তর ভারতের কোশাম্বীর নিকটে পভোসায় প্রাপ্ত একটি গুহালিপিতে ‘বঙ্গপাল’ নামের রাজার ‍উল্লেখ রয়েছে।

বাদশাহ আকবরের সভাসদ ঐতিহাসিক আব্দুল ফজল তারা আইন-ই- আকবরি গ্রন্থে বলেছেন ’বঙ্গ’ শব্দের সঙ্গে ’আল’ শব্দযুক্ত হয়ে (বঙ্গ + আল) বঙ্গালা বা বাঙ্গালা নামের উদ্ভব হয়েছে। ‘আল’ বলতে সীমা বা বাধ বোঝায়। অতীতে পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি ১০ হাত উঁচু ও ২০ হাত চওড়া স্তূপকে বলা হত ’আল’। ডা. নীহাররঞ্জন রায় আব্দুল ফজল এর ব্যাখ্যাকে অযৌক্তিক মনে করেননি।

তবে ডঃ রমেশ চন্দ্র মজুমদার তা মানতে রাজি ছিলেন না। তার মতে, প্রাচীন ছিলেন লিপিতে বঙ্গ ও বঙ্গাল নামের দুটি দেশ পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন, বঙ্গ থেকে নয় বরং বঙ্গাল থেকে বাঙ্গালা নামের উদ্ভব হয়েছে। তবে একথা সত্য যে, বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহের মধ্যে ‘বাঙ্গাল’ এর তুলনায় ’বঙ্গা’ অধিক খ্যাতিমান ও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।


এতে বোঝাযায় বঙ্গ এর সাথে বাংলা নামের উদ্ভবের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তার বিখ্যাত ‘তবকাত-ই-নাসিরি’ গ্রন্থে মুসলমানদের বাংলা বিজয় কালে এ অঞ্চলকে ‘বঙ্গ’নামে উল্লেখ করেছেন। তার পরবর্তী ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারাণি সর্বপ্রথম বঙ্গ অর্থে ’বাঙ্গালাহ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

ইবনে বতুতার বৃত্তান্তেও বঙ্গ-এর পরিবর্তে বাঙ্গালার ব্যবহার লক্ষণীয়অ ১৩৩৮ সনে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ গৌড় বিজয় করেন এবং শাহ-ই-বাঙ্গালা হ উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আসীন হন। বাদশাহ আকবরের ( ১৫৫৬-১৬০৫) আমলে ভারতের পূর্ব দক্ষিণ অঞ্চলের এক বিস্তৃত ভূখণ্ড ‘সুবাহ-ই-বাঙ্গালা’নামে পরিচিত ছিল।

কাগজপত্রে বেঙ্গালা (Bengala) এবং পরবর্তীতে ইংরেজগণ এ থেকে বেঙ্গল (Bengal) নামকরণ করেন। ব্রিটিশ ভারতে বাংলা প্রদেশ (Bengal presidency) ছিল একটি বৃহৎ প্রদেশ ছিল। ১৮৫৪ সালে বড়লাট লর্ড ডালহৌসি নতুন বাংলা প্রদেশের সূচনা করেন। বিহার, উড়িষ্যা, ছোট নাগপুর তখন বাংলা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হয়ে পশ্চিমবাংলা প্রদেশ ও প্রচলিত ছিল।

পাকিস্তান আমলে 1956 সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে এতদাঞ্চালকে পূর্ব বাংলার পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান নামকরণ করে। ‘বাংলাদেশ’নামটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৯ সালের পাঁচ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীর মৃত্যুবার্ষিকীর এক আলোচনা সভা তিনি এই নামটি ব্যবহার করেছেন।

পরবর্তীতে 1971 সালের ৩ মার্চ পল্টনে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের এক জনসভায় এবং বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বাংলাদেশ নামটি উচ্চারিত হয়েছে। 1971 সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণায় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, হিসাবে এদেশের নামকরণ করে। এভাবে বঙ্গ থেকে বাংলাদেশের নামকরণ হয়।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি বাংলাদেশের নামকরণ বা বাংলাদেশের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনি যদি উপরের সমস্ত কিছু ভালো করে পড়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশের নামকরণ সম্পর্কে আপনার আর কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে এ বিষয় যদি আপনার কোন মতামত থাকে অথবা ভুল সংশোধন করতে হয় অবশ্যই নিচে মন্তব্য করার অপশন থেকে আপনার মূল্যবান মতামত পরামর্শটি আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।


আমাদের সঙ্গে এতক্ষণ থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে অথবা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শেয়ার করুন যাতে করে সবাই এই বিষয়ে জানতে পারে। আমাদের (ইভিভিটিভি) সঙ্গে এতক্ষন থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url