সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার - সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ

আপনি কি সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার তা জানতে চান আপনি যদি সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার এক কথায় সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়লে আপনি সংক্ষিপ্ত শব্দ সম্পর্কে সমস্ত খুঁটিনাটি জানতে পারবেন।
সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ
তাই আপনি সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আমরা সহজ ভাবে সংখ্যাবাচক সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

সূচিপত্রঃ সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার - সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ

ইভিভিটিভি

ভূমিকা

সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে ধারণা রাখা বা জ্ঞান রাখা আমাদের প্রত্যেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা রয়েছেন যারা সংখ্যাবাচকে শব্দ সম্পর্কে তেমন কোন কিছু জানেন না। যারা সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি। তবে যারা ইতিমধ্যে সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন তাদের জন্য এই পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

কারণ আমরা এই আর্টিকেলের মধ্যে আলোচনা করব সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার বা সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকার এছাড়াও সংখ্যাবাচক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এছাড়াও আমরা আলোচনা করব সংখ্যাবাচক শব্দের বিশেষ কিছু নিয়ম এবং প্রাচীন ভারতীয় কাল গণনা সম্পর্কে। তো চলুন শুরু করা যাক।

সংখ্যাবাচক শব্দ

যেসব শব্দ দিয়ে সংখা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যা শব্দ বলে। একম দুই, তিন, চার, পাঁচ,ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ- এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে। আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়। যথা,১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি শব্দ-এগুলো এখানে অংকে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খন্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার

আপনি হয়তো ভাবছেন আমরা তো সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে জানলাম। কিন্তু সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার? সংখ্যাবাচক শব্দ সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে যথা ক্রমবাচক এবং পূরণবাচক। তবে আপনাকে যদি এ বিষয়ে আরেকটি ছোট্ট উদাহরণ দেয় তাহলে হয়তো আপনি বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আমরা প্রথমেই যেমনটি বললাম সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।


আর এই দুই প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দের মধ্যে প্রথমেই আমরা যে কথাটি বলেছি তা হলো ক্রমবাচক। এখানে ক্রমবাচক শব্দগুলো হলো এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত ইত্যাদি। অন্যদিকে পুরাণবাচক শব্দগুলো হলো প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ

আমরা আপনাকে সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার এ বিষয়ে ভালোভাবে বুঝিয়েছি। আপনি যাতে করে আর সহজ ভাবে আর ভালোভাবে বুঝতে পারেন এ কারণে আমরা আরও আপনাকে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার
আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পারলাম সংখ্যাবাচক শব্দ দুই প্রকার। ১. ক্রমবাচক ও ৩, পূরণবাচক। ক্রমবাচক, যথা, এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়। পূরণবাচক, যথা: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ।

১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ: একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক শব্দসংখ্যা। যেমন: ১ (এক), ২(দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়) , ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পরেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো). ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হল এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাজবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘দুই, এবং ‘দো’। ‘তিন’ সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘ত্রি’ এবং ’তে’।

২. পূরণাবাচক সংখ্যাবাচক: পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন: ‘ক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’. ‘ পহেলা’ ইত্যাদি। এগুলো কে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়। যধা: ক, সাধারণ পূরণবাচক, খ. তারিখ পূরণবাচক ও গ. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

ক. সাধারণ পূরণবাচক: ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয় থাকে। যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ, বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণাবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন: ১, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম, ইত্যাদি।

১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পুরানবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ), ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), এয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৮শ) ও চৌদ্দতম (১৪তম), পঞ্চাশ (৫০শ), ও পনেরাতম (১৫ তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তাদশ (১৭শ) ও সতেরোত (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮তম) ও আঠারোতম (১৮তম)।


১১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পুরানবাচককে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা উনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা আশীতিতম (৮০তম),,, নব্বয়তম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি। এছাড়াও (১০০তম) শততম, (১০০০তম) সহস্রতম (১০,০০০) অযুত (১,০০,০০০) লক্ষ (১০,০০,০০০) (দশ লক্ষ নিযুত মিলিয়ন ১০০০০০০০ এক কোটি দশ বিলিয়ন)

বাংলা ভাষায় সাধারণ পুরাণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন: প্রথমা (১মা) দ্বিতীয়া (২য়), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী,) ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), এয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

খ. তারিখ পূরণবাচক: বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যতীত হয়। যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ছয়ই (৬ই) সাতই(৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই),এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরাই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে) বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনিত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

গ. ভগ্নাংশ পুরণবাচক : কখনো পূর্ণ সংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন : আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথা ইত্যাদি।
আপনারা যারা এই বিষয়টি বোঝেননি তাদের জন্য নিচে ভগ্নাংশ পূরণবাচক ভেঙ্গে দেখানো হলো ছবিতে।
সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ

প্রাচীন ভারতীয় কালো গণনা

কালের ক্ষুদ্রতম একক হলো ‘অনুপল)।
১ অনুপল = ১/১৫০ সেকেন্ড = সেকেন্ড আর 150 ভাগের এক ভাগ = ০.০০৬৬৬৬৬৬ সেকেন্ড প্রায়।
৬০ অনুপল = এক বিপল (২/৫) সেগেন্ড।
৬০ পল = ১পল = ২৪ সেকেন্ড।
২ দন্ড = ১ মুহূর্ত = ৪৮ মিনিট।
৭.৫ দন্ড = ১ প্রহর = ৩ ঘন্টা।
৮ প্রহর = ২ আহোরাত্র = ১ দিবারাত্র = ২৪ ঘন্টা = ৩০ মুহূর্ত ৬০ দন্ড।
অন্য একটি মতানুসারে সময়ের এক ক্ষুদ্রতম একক ’নিমেষ’।
১ নিমেষ = ০.১০৬৬৬৬৬৬ সেকেন্ড প্রায়।
১৫ নিমেষ = ১ কাষ্ঠা = ১.৬০ সেকেন্ড।
৩০ কাষ্ঠ = ১ কলা = ৪৮ সেকেন্ড।
৩০ কলা = ১ ঘটিকা = ২৪ মিনিট = ১ দন্ড।
২ ঘটিকা = ১ মুহুুর্ত = ৪৮ মিনিট
৩০ মুহুর্ত = ১ অহোরাত্র = ২৪ ঘণ্ট।
১৫ অহোরাত্র = ১ পক্ষ।
২ পক্ষ = ১ মাস।
২ মাস = ১ আয়ন।
২ আয়ন = (দিক্ষণায়ন ও উত্তরায়ন) = সৌরবর্ষ (মনুষ্যবর্ষ) = ১ দিব্য অহোরাত্র।
৩৬৫ দিব্য অহোরাত্র = ১ দিব্যবর্ষ।
১২,০০০ দিব্যবর্ষ = ৪ যুগ = ১ যুগাবর্ত [সত্যযুগ = = ৪,০০০ দিব্যবর্ষ + ত্রেতাযুগ = ৩,০০০০ ‍দিব্যবর্ষ + দ্বাপরযুগ = ২,০০০ দিব্যবর্ষ + কলিযুগ = ১,০০০ দিব্যকর্ষ; মোট ১০,০০০ দিব্যবর্ষ + প্রতিযুগের জন্য ১০% যুগসন্ধ্য ও ১০% সন্ধ্যাংশ, সর্বমোট ১২,০০০ দিব্যবর্ষ।]
১৮ যুগাবর্ত = মন্বন্কর= একজন মনুর অধিকার কাল।
১৪ মন্বন্তর = ১ ব্রাহ্ম অহোরত্র।
৩৬৫ ব্রাহ্ম অহোরাক্র = ১ ব্রাহ্মবর্ষ।


এভাবে মহাকাল পদ্মা নামের সময়ে এক বৃহৎ এককের অস্তিত্ব জানা যায়। তবে এর ব্যাপ্তি কত মনুষ্যবর্ষ তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি।

সংখ্যাবাচক শব্দের বিশেষ কিছু নিয়ম

বাংলা তৎসম অঙ্কবাচক সংখ্যা এবং বাংলা তৎসম ১০ গুণিতিক সংখ্যার লিখন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ। সংখ্যকবাচক শব্দের বিশেষ কিছু নিয়ম আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন।
বাংলা তৎসম বাংলা (৬-১০) তৎসম (৬-১০)
এক এক ছয় ষট্
দ্বি দ্বি সাত সপ্ত
ত্রয় ত্রয় আট অষ্ট
চুতঃ চুতঃ নয় নব
পঞ্চ পঞ্চ দশ দশ

লেখকের মন্তব্য

আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ এবং সংখ্যাবাচক ভারতীয় কাল করো না এবং সংখ্যা পার্থক শব্দের বিশেষ কিছু নিয়ম। আশা করি এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়েছেন এবং সংখ্যাবাচক শব্দ সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার উপকারে আসে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। যাতে করে পরবর্তী সময় আপনি অথবা অন্যরা দেখতে পারে। আমাদের (ইভিভিটিভি) সঙ্গে এতক্ষণ থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url